প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ০৭:৩৬ পিএম
আর্থিক লেনদেন ও শেয়ার নিয়ে বিরোধ: পাওনা আদায়ে আইনি নোটিশ, পাল্টা জবাব
সাজ্জাদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বকে কেন্দ্র করে রংপুরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের পর পাওনা টাকা ও ব্যবসায়িক হিসাব বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী পক্ষ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই মধ্যে এক পক্ষের পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের জবাবে পাল্টা আইনি জবাব দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে ডা. মো. গোলাম রসুল রাফির কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। ওই লেনদেনের অংশ হিসেবে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ওই অর্থ ফেরত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর কয়েক বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকট আরও বেড়ে যায়। পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও আইনি উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
অভিযোগকারী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, তাদের সঙ্গে ডা. মো. গোলাম রসুল রাফির পূর্বে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই অর্থ লেনদেন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পাওনা অর্থ ফেরত চাইলে বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যবসায়িক লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রাপ্ত লিগ্যাল নোটিশের জবাব অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ. কে. এম. বদরুদ্দোজার মাধ্যমে ডা. মো. গোলাম রসুল রাফির পক্ষে আইনজীবী জীতেন্দ্র নাথ রায়কে ওই জবাব পাঠানো হয়েছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়, মোছাম্মাৎ জেবুন নেছার পক্ষ থেকে গত ৩ আগস্ট ২০১৪ তারিখে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই নোটিশের জবাবে ডা. মো. গোলাম রসুল রাফির পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশের জবাবে ১৫ হাজার শেয়ারের প্রতিটির মূল্য ১০০ টাকা হিসেবে মোট ১৫ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে ব্যাংকের চেক এবং নির্মাণসামগ্রী—ইট, রড ও সিমেন্ট—বাবদ আরও ৮১ লাখ টাকা গ্রহণের যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিরোধ রয়েছে বলে জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথিতে আরও উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট ‘জি.এস.এ অটো ব্রিকস লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ থেকে পদত্যাগ করে ডা. মো. গোলাম রসুল রাফি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। একইসঙ্গে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের তারাগঞ্জ শাখা থেকে নেওয়া ঋণ, কোম্পানির ব্যয় ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়েও অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য রয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ব্যবসায়িক অংশীদারত্বে বিনিয়োগ করা অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং পাওনা অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনিক পর্যায়ে যোগাযোগ, আইনি নোটিশসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা কারও বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ করতে চান না; তাদের মূল দাবি, যে অর্থ তাদের পাওনা রয়েছে, তা ফেরত পাওয়া এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পাওনা অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলেও জানান তারা।

অন্যদিকে, লিগ্যাল নোটিশের জবাবে ডা. মো. গোলাম রসুল রাফির পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাতে অভিযোগের কিছু অংশ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে। ফলে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
ভুক্তভোগী পক্ষ জানিয়েছে, তারা তাদের পাওনা অর্থ আদায় এবং বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।