​যাত্রাবাড়ীতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ ও উচ্ছেদ হুমকির অভিযোগ: পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে অনধিকার প্রবেশের দাবি

​বিশেষ প্রতিবেদক: 

​রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শবাগ এলাকায় এক নারী উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অনধিকার প্রবেশ, একপক্ষীয় ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ পরিচালনা, উচ্ছেদের হুমকি এবং ‘মব’ সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আইনি ও সাংগঠনিক প্রতিকার চেয়ে পুলিশ প্রশাসন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

​ঘটনার বিবরণ ও থানার অভিযোগ:
ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা লাবন্য ইসলাম (২৪), যিনি ‘Assertive Security Services Ltd.’ নামক একটি নিরাপত্তা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অভিযোগে উল্লেখ করেন যে—তিনি যাত্রাবাড়ীর আদর্শবাগ এলাকার হোল্ডিং নং ৩৮/২৮-এর ভবনে স্পেস ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনের মালিক মো: শাহাজামান এবং কেয়ারটেকার সোহেল দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার কার্যালয়ের নারী কর্মীদের ব্ল্যাকমেইল, অনৈতিক কুপ্রস্তাব এবং শারীরিক শ্লীলতাহানিসহ বিপুল অঙ্কের টাকা জোরপূর্বক আদায় করে আসছিল। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ৫ই অক্টোবর ভুক্তভোগী যাত্রাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।  
​পুলিশের উপস্থিতি ও ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ পরিচালনা:
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের জের ধরে গত ৬ই অক্টোবর রাত আনুমানিক ৭:০০ ঘটিকায় যাত্রাবাড়ী থানার সাব-ইন্সপেক্টর মাকসুদ সাধারণ পোশাকে এক বহিরাগতকে নিয়ে কার্যালয়ে আসেন। ঠিক একই সময়ে ছাত্রদল নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক তার স্থানীয় অনুসারীদের নিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কার্যালয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন।  
​সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতিতেই দলীয় পরিচয় ও পদ-পদবির অপব্যবহার করে একপক্ষীয় বিচার বা ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বসানো হয়। ভুক্তভোগীর চরিত্র হননপূর্বক অনৈতিক অপবাদ দেওয়া হয় এবং স্থানীয় জনতাকে উসকে দিয়ে ‘মব’ পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগপত্রে জানানো হয়। এছাড়া, চলতি মাসের ভাড়া পরিশোধ থাকা সত্ত্বেও আগামী ১০ই অক্টোবরের মধ্যে কার্যালয় খালি করার জন্য আলটিমেটাম ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়।  

​সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও কেন্দ্রীয় সংসদে আবেদন:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের 'জিরো টলারেন্স' নীতি এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ এনে গত ৬ই অক্টোবর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক বরাবর রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার আবেদন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার দিন সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও ও অডিও রেকর্ড ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে সুরক্ষিত রয়েছে।  

​পূর্বের বিতর্ক ও গণমাধ্যম প্রতিবেদন:
উল্লেখ্য, রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে এর আগেও দলীয় পদায়নে যোগ্যতা ও অনিয়ম নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় দৈনিক ‘সময়ের আলো’-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পাস) এবং ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে খবর প্রচারিত হয়েছিল।
​এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (ডিসি) ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।