প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সময়: ০৭:২৫ পিএম
কুলিয়ারচরে হানিফ হত্যার পাঁচ মাস পর বাবা-ছেলে গ্রেফতার: হত্যার নেপত্যে মাদকবিরোধী অবস্থান
মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে চাঞ্চল্যকর হানিফ মিয়া হত্যা মামলার প্রায় পাঁচ মাস পর বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) কুমিল্লার দেবিদ্বার থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের নাপিতের গ্রামের লসকর মিয়ার পুত্র জাকির হোসেন (৪০) ও জাকির হোসেনের ছেলে সজিব মিয়া (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে রাতে হানিফ মিয়া তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে জানান, আনোয়ার হোসেন ফোন করে আমাকে জাকির হোসেনের বাড়িতে যেতে বলেছেন। পরে আবার রাত পৌনে একটার দিকে স্ত্রীকে ফোন করেন হানিফ। এ সময় ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁর কণ্ঠে শোনা যায়- জাকির ভাই, তুমি আমারে আর মাইরো না, আমাকে প্রাণ ভিক্ষা দাও। এর পরপরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হানিফের পরিবারের সদস্যরা পরে জাকিরের বাড়িতে গিয়ে ভেতর থেকে তাঁর চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান। রাত আড়াইটার দিকে হানিফের শ্বশুর বকুল মিয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে আয়েতউল্লাহ নামে একজনকে বাড়ির সিলিং থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ সময় আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে জাকিরের বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে জসিম উদ্দিনের কাঠবাগান থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গত ১৪ মে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় জাকির হোসেনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তথ্য মতে, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় কয়েকজন যুবক এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হানিফ মিয়াও ছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জাকির মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পেছনে হানিফ পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছেন- এমন সন্দেহ থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনায় আরও কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামতসহ অন্যান্য বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেফতার জাকির হোসেন ও সজিব মিয়াকে কুলিয়ারচর থানায় রাখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হানিফ হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পর অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দ্বাড়িয়াকান্দি-বেলাব সড়কের ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন এলাকাসী।