ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের উত্তেজনা: কেসি কলেজে পাঠদান বন্ধ, রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনার জেরে ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে বৃহস্পতিবারের সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাসরুর উল আলমের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ৮ অক্টোবর সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কোনো সভা, সমাবেশ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাবে না।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শহরে পৃথক মিছিলও করে সংগঠন দুটি।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কেসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ছিল। এ জন্য অতিথিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে কলেজে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করায় অনুষ্ঠানটি ক্যাম্পাসে হওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শাহরিয়ার মাহবুব ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। ৫ অক্টোবর ছাত্রদলের সঙ্গে উত্তেজনার ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তবে অনুষ্ঠানটি কলেজে হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
অন্যদিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি বাবর আলী মাহফুজ বলেন, ছাত্রশিবিরের এক কর্মী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য ছাত্রশিবিরের নেতাদের বলা হলে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।