৩৫ বছর আলাদা থেকেও বিবাহবিচ্ছেদ করেননি নানা পাটেকার
দাম্পত্যে দূরত্বের নেপথ্যে ছিল ব্যক্তিত্বের পার্থক্য, তবু অটুট ছিল আইনি সম্পর্ক
বিনোদন ডেস্ক
বর্ষীয়ান ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যুর পর তার ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা অধ্যায় সামনে আসছে। স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকারের সঙ্গে প্রায় ৩৫ বছর আলাদা থেকেও কেন তারা আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ করেননি—এ প্রশ্ন এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নানা ও নীলকান্তির পরিচয় হয়েছিল থিয়েটারে কাজ করার সময়। মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৭৮ সালে তারা বিয়ে করেন। নীলকান্তিও মারাঠি থিয়েটার ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরে নানা বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধীরে ধীরে অভিনয় ও প্রচারের আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন নীলকান্তি।
এক সাক্ষাৎকারে নানা জানিয়েছিলেন, দুজনের ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনার মধ্যে পার্থক্য ক্রমে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে একসঙ্গে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেই দূরত্ব কখনো আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদে গড়ায়নি।
দাম্পত্যে বিচ্ছিন্নতা এলেও নীলকান্তির প্রতি নানার কৃতজ্ঞতা ছিল। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে যখন তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তখন স্ত্রী তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। সে সময় নীলকান্তি একটি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তেও তিনি নানাকে সমর্থন করেছিলেন।
তাদের সংসারে যেমন সাফল্য এসেছে, তেমনি নেমে এসেছে গভীর শোক। দম্পতির প্রথম সন্তান দুর্বাসা মাত্র আড়াই বছর বয়সে মারা যায়। পরে তাদের আরেক ছেলে মালহার পাটেকর জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় আলাদা জীবনযাপন করলেও নানা ও নীলকান্তির বৈবাহিক সম্পর্ক আইনিভাবে বহাল ছিল। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দুজনের কেউই প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি। ফলে তাদের দাম্পত্যের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী অধ্যায় এত দিন অনেকটাই আড়ালে ছিল।
নানার মৃত্যুর পর সেই সম্পর্কের নানা দিক আবার সামনে এসেছে। একই ছাদের নিচে না থেকেও কীভাবে তারা এত বছর বৈবাহিক সম্পর্কে ছিলেন, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল।