“নেকাব পরা ছাত্রীকে ‘জঙ্গি’ বলার অভিযোগ, ঢাবি শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি”

অভিযোগের পর জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা, কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন


ক্যাম্পাস ডেস্ক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’ ও ‘বোমা মারতে পারে’—এ ধরনের মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় তাকে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তার নেওয়া কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।


বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) একটি ক্লাসে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।


ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সভায় একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের কাছে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হচ্ছে।


বিভাগীয় চেয়ারম্যান বলেন, এ ধরনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা একাডেমিক কমিটির নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। বিভাগ থেকে ঘটনাটি তাদের অবহিত করা হবে।


অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মল্লিকার ভাষ্য, ক্লাসে তার নেকাব পরা নিয়ে শিক্ষক আপত্তি জানান এবং তাকে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসতে বলেন। এর আগে নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার একাধিকবার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি পরিচয় নিশ্চিত করতে অফিস সময়ে দেখা করা ও পরিচয়পত্র দেখানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানান মল্লিকা।


অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইসা মণি সুমি অভিযোগ করেন, ওই ক্লাসে পোশাক ও ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্রীকে ‘জঙ্গি’ এবং তিনি ‘বোমা মারতে পারেন’—এমন মন্তব্য করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন সুমি।


শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, শিক্ষক তাদের হুমকি দিয়েছেন এবং নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানিয়েছিলেন, বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। লিখিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরদিন বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।


এদিকে, বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষককে ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি তার কোর্সগুলো পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।