জহুরুল ইসলাম জুয়েল, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে দৌলতপুরের যমুনা নদী থেকে ৯ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৪০টি চায়না দুয়ারি জাল ও প্রায় ৩ হাজার গ্রাম ইলিশ জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও হরিরামপুরের পদ্মা নদীতে মাছ ধরা ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা থেকে প্রকৃত জেলেদের অনেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে দৌলতপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬-এর অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্নী। এ সময় পুলিশ সদস্য, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে জব্দ করা অবৈধ জাল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় অসহায় ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, হরিরামপুরের আন্ধারমানিক পদ্মা নদীর ঘাটে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জেলেদের মাছ ধরা ও বিক্রি করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘাটে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রির পাশাপাশি মাছের আড়তেও কেনাবেচা চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মৎস্য বিভাগের পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় মাছ ধরা ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়।
জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ ২৫ কেজি চাল প্রকৃত জেলেদের সবাই পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। জেলে কার্ড বিতরণ নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ।
স্থানীয় জেলে হারুন খন্দকার বলেন, একটি পরিবারে পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য থাকলে ২৫ কেজি চালে সংসার চালানো কঠিন। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে জীবিকা নির্বাহেও সংকটে পড়তে হয়। তাই জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
আরেক জেলে মোমেজ উদ্দিনের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরলেও তিনি সরকারি সহায়তা পাননি। নিষেধাজ্ঞার সময়ে অল্প কিছু মাছ বিক্রি করে কোনোমতে পরিবার চালাতে হয় তাঁকে।
হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরুল ইকরাম বলেন, তাঁরা বিভিন্ন আড়ত পরিদর্শন করে ইলিশের উপস্থিতি যাচাই করছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। জেলে কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। হরিরামপুরে মাছ ধরা ও বিক্রির অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্নী জানান, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সংরক্ষণ অভিযান চলবে। এ সময়ে নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।