কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে মুহূর্তের এক দুর্ঘটনায় থেমে গেল দুটি প্রাণ। যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের পথে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিকে চাপা দিল দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলো চালকসহ চারজনকে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হলো অটোচালক ও এক তরুণীর। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ওই তরুণীর স্বামী ও দেড় বছরের শিশুসন্তান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পীরবাড়ি এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে ভাঙচুর চালান।
নিহতরা হলেন বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মুকসুদ আলীর ছেলে অটোরিকশা চালক জয়নাল আবেদীন (৪৫) এবং সরাইল উপজেলার চুন্টা গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার মেয়ে জুথী আক্তার (২২) আহতরা হলেন জুথীর স্বামী জাকির হোসেন ও তাঁদের দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তান জায়ান আহমেদ। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা সি অফিস এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি যাত্রী নিয়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ঘাটুরার দিকে যাচ্ছিল। পথে পীরবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে ময়মনসিংহ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী টিএ পরিবহনের একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জুথী আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। কিছুক্ষণ পর মারা যান অটোরিকশাচালক জয়নাল আবেদীনও।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ক্ষুব্ধ লোকজন বাসটিতে ভাঙচুর চালান।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।