একের পর এক এলএনজি টার্মিনাল এর যান্ত্রিক ত্রুটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। রান্নার চুলা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র শিল্প কারখানা এবং সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংকটের কারণে নানামুখী সমস্যায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। গ্যাস নির্ভর এলাকা গুলোতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য মতে আজ থেকে আগামী চার দিন সামিট এর এল এন জি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকবে। এতে গ্যাস নির্ভর শিল্প কারখানা বৈদ্যুতিক উৎপাদন কেন্দ্র সহ সাধারণ জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে বলে অনেকের ধারণা। যদিও কেজি সিডিএল এর কর্মকর্তারা বলছেন সামিট এর এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকলেও সামগ্রিকভাবে কোন প্রভাব পড়বে না। তাদের তথ্যমতে চট্টগ্রামে প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ করা হতো ২৫৫-২৬০ মিলিয়ন ঘনফোট যা আজ থেকে সরবরাহ করা হবে ২৩৪ মিলিয়ম ঘনফুট তবে এটা দৈনন্দিন কাজে কোন বাধা ফেলবে না বলেও তাদের দাবি।
যারা যায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাময়িক গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুরো কার্যক্রম চার দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। যান্ত্রিক সমস্যা পুরোপুরি সচল করার জন্য তাদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত বলে সামিত গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ অনেকটা কমে গেছে এতে অনেক জায়গায় রান্নার চুলাও জ্বলছে না। এতে নগরীর আবাসিক শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেক এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে গ্যাস না থাকায়।
এ বিষয়ে কেজিডিসিএল এর এক কর্মকর্তা বার্তা বিচিত্রাকে বলেন নগরীতে থাকা অনেক রড উৎপাদন কারী প্রতিষ্ঠানকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয়া হয়েছে এতে আবাসিক গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এবং আবাসিক এলাকাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে কেজিডিসিএল এর কর্মকর্তারা। যেহেতু চট্টগ্রামের গ্যাস গুলো পুরোটাই আমদানি নির্ভর তাই আমদানিকৃত এলএনজির যোগান কমে গেলে চট্টগ্রামের এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই গ্যাসের সংকট তৈরি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বার্তা বিচিত্রাকে বলেন চট্টগ্রামে আমদানি নির্ভর গ্যাস হওয়াতে অনেক সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে এই এলাকার সাধারণ মানুষদের আগে বাখরাবাদ লাইন ব্যবহার করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস আনা হতো কিন্তু এখন সেই সুযোগ না থাকার কারণে গ্যাসের সংকট তীব্র হয় এ অঞ্চলে।