চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৭ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জনমনে।
জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্বর নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। আগের মাসগুলোর তুলনায় অক্টোবরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি থাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। বিশেষ করে মহানগর এলাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এবং ময়লা-আবর্জনার কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফলে দিন দিন ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার বার্তা বিচিত্রাকে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় পরিষ্কার পানিতেও এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলতে হবে। জ্বর ও শরীর ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বার্তা বিচিত্রাকে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
তবে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরবাসীর অনেকে। আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম চৌধুরী বার্তা বিচিত্রাকে বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে মশার ওষুধ ছিটানো হলেও পরবর্তী সময়ে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।