চার ইউনিয়ন নিয়ে বরিশল উপজেলা গঠনের প্রস্তাবে ক্ষোভ, মহাসড়কে আগুন, রেল-সড়ক যোগাযোগ বন্ধের হুঁশিয়ারি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
চারটি ইউনিয়ন নিয়ে বরিশল নামে পৃথক উপজেলা গঠনের উদ্যোগের প্রতিবাদে এবার রাজপথে নেমেছেন চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধে সোমবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট ঘোষণা, তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
সোমবার ২ নভেম্বর সকাল থেকেই নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে সংগঠিত হতে থাকেন সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর ও বাসুদেব ইউনিয়ন এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাদের মতামত উপেক্ষা করে এবং বিষয়টি আড়ালে রেখে নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীদের একটি অংশ। তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও বিজয়নগর উপজেলার একটি ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন করে বরিশল নামে নতুন উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার
বিভাগ নতুন উপজেলা নিরীক্ষণের জন্য সম্প্রতি দাপ্তরিক চিঠি পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
পরে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম রুমা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ চার ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেন তারা।