নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোকসেদুল ইসলামের নানা অনিয়ম দূর্নীতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দিবেন।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউপি সচিব মোখছেদুল ইসলামের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আব্দুল মুয়ীদ আলাল। এতে তিনি তুলে ধরেছেন যে, সচিব রাতের আঁধারে মূল রেজুলেশন খাতা চুরির অপচেষ্টা করেছেন ও জনতার হাতে ধরা পড়েন। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে বাইরে পৃথক রেজুলেশন তৈরি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে মহিলা মেম্বারের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-২ কে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইউএনও অফিসে পাঠিয়েছেন।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোকসেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেআইনি ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। সম্প্রতি তিনি একটি নজিরবিহীন অপরাধ সংঘটিত করেছেন। তা হলো রাতের আঁধারে মূল রেজুলেশন খাতা চুরির প্রাক্কালে হাতেনাতে আটকের ঘটনা।
গত ৩১ অক্টোবর রাত ১০ টা ১৫ মিনিটে মোকসেদুল ইসলাম গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে রাতের আঁধারে অত্যন্ত সুকৌশলে ইউনিয়ন পরিষদের তালা খুলে মূল রেজুলেশন খাতাটি চুরি করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সে সময় স্থানীয় জনতা ও সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করেন এবং মূল রেজুলেশন খাতাটি তাদের দখল থেকে উদ্ধার করেন।
এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সেই রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী গ্রাম পুলিশ মো. মানিক ইসলাম ও শ্রী গণেশ চন্দ্র রায়, মো. রহিদুল ইসলাম, মো. আরিফুল ইসলাম ও মো. মাসুম ইসলাম। ভিডিও ফুটেজেই গ্রাম পুলিশ মানিক স্বীকার করেছেন যে ইউপি সচিবের নির্দেশেই তিনি রেজুলেশন বই নিতে এসেছেন।
রাতের আঁধারে মূল রেজুলেশন খাতা চুরির চক্রান্ত জনতার হাতে ধরা পড়ার পর মোখছেদুল ইসলাম মূল রেজুলেশন খাতা ব্যবহার করার পথ বন্ধ থাকায়, দাপ্তরিক নিয়ম ও আইন লঙ্ঘন করে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে সম্পূর্ণ অবৈধ ও মনগড়া একটি আলাদা রেজুলেশন বই তৈরি করেন। সেই রেজুলেশন বই দিয়ে গত ৩ নভেম্বর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. হোসনে আরার কাছে থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান করার জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
একইসাথে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মুয়ীদ আলালের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে সচিব মোকসেদুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন সরকারের পিএস মো. মাসুদ আলী মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন।এছাড়াও উক্ত জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা অবৈধ রেজুলেশনে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দিনকে অবৈধভাবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণের একটি মিথ্যা প্রস্তাব তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য ইউএনও অফিসে পাঠিয়েছেন।
এব্যাপারে অভিযোগকারী আব্দুল মুয়ীদ আলাল বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথি চুরি করার অপচেষ্টা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের বিষয়টি আমলে নিয়ে ইউপি সচিব মোখছেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। সেই সাথে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে তৈরি করা অবৈধ ও জালিয়াতির রেজুলেশনটি অবিলম্বে বাতিল বা খারিজ করা এবং এই অপকর্মে ইউপি সচিবের সাথে সরাসরি জড়িত প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও ফৌজদারি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছি।
এব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোখছেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আবেদনের সাথে দেওয়া ভিডিও ফুটেজ লিংক, পত্রিকার সংবাদের তথ্য পর্যালোচনা ও নিরিক্ষণ করে এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির তদন্ত করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিবেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।