ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিনাপানি এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (FFP) চাল বিতরণে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের কথা থাকলেও, তাকে ছাড়াই চাল বিতরণ করছেন স্থানীয় ডিলার সাইফুল ইসলাম। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই এলাকার সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে কার্ডধারীদের ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ করে আসছে। তবে বিনাপানি কেন্দ্রের এই কার্যক্রমে তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) অনুপস্থিত থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
চাল বিতরণে ট্যাগ অফিসারের না থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে ডিলার সাইফুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সকালে চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিআরডিবির উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন। তবে বিআরডিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, "আমি গতকাল সকালে চাল বিতরণ কেন্দ্রে গিয়েছিলাম, তবে আজ সেখানে যাইনি।" এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি প্রধান ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি নিজে ওই কেন্দ্রে সাধারণত যান না; সেখানে সবসময়ই তদারকির দায়িত্বে যান সিদ্দিকুর রহমান। দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তার এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তদারকি ব্যবস্থার চরম সমন্বয়হীনতা ও গাফিলতি প্রকাশ্যে আসে।
কর্মকর্তাদের অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্যের পর ডিলার সাইফুল ইসলামের কাছে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, "গতকাল সকালে ট্যাগ অফিসার কার্যক্রম উদ্বোধন করে গেছেন। এরপর থেকে আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথেই চাল বিতরণ করছি।"
এ বিষয়ে তদারককারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, আগের কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেছেন এবং নতুন যিনি এসেছেন তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন কর্মকর্তা জানান, চাল বিতরণের সময় নিয়ম অনুযায়ী অবশ্যই একজন ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
সার্বিক বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে তদারকি কর্মকর্তা ছাড়া চাল বিতরণের ঘটনাটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আস্বস্ত করেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও ডিলার সাইফুল ইসলামের প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে চাল বিতরণের পর অবশিষ্ট বা অবৈধ চাল ডিলারের নিজস্ব বাড়িতে নিয়ে রাখা হতো। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সচেতন মহলের অভিযোগ, কোনো ধরনের তদারকি বা ট্যাগ অফিসার ছাড়া এভাবে চাল বিতরণ করায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। অতীতেও বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া কার্ড ব্যবহার করে সরকারি চাল উঠিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। বিনাপানিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের ঘটনা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অবিলম্বে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।