গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বাগেরহাট শুভাগমন উপলক্ষে চিতলমারী উপজেলা মহিলা দলের উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা ও বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৪ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে আয়োজিত এই প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নেত্রী এবং চিতলমারী উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব রুনা গাজী। সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়, যা এলাকার নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন ও ত্যাগের কথা স্মরণ
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক জনাব রুনা গাজী দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি নিজের ওপর বয়ে যাওয়া অমানবিক নির্যাতনের কথা স্মরণ করে বলেন, স্বৈরাচারী আমলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েও তাকে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছিল। এমনকি ছয় মাসের দুধের বাচ্চাকে রেখে জেলে যাওয়ার ফলে শিশুটি মায়ের বুকের দুধ পর্যন্ত খেতে পারেনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানও প্রবাসে দীর্ঘ সময় অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছেন। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল, অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য লুট করা হয়েছিল এবং অনেক নেতাকর্মী জেলবন্দি ছিলেন।
প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত ও ক্ষমাশীলতা
জনাব রুনা গাজী বলেন, সকল জুলুম ও অত্যাচারের প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলকে ক্ষমা করে দিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। এমন উদার ও মানবিক মনের অধিকারী প্রধানমন্ত্রী পাওয়া বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।
তিনি জানান, বাগেরহাটের পুণ্যভূমি খানজাহান আলী ও হযরত খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত এবং ষাট গম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে আগমন করছেন। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও উৎফুল্ল। ফকিরহাট থেকে কাটাখালী মোড় পর্যন্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রীকে চিতলমারী ও বাগেরহাটবাসীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হবে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী, মাদার অব ডেমোক্রেসি মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন এবং রাজনীতিকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাবিস্তারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মেয়েদের ১ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন যাতে পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও দেশ গড়ার কাজে সমানভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকারের পথচলা
জনাব রুনা গাজী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সর্বোচ্চ আসন লাভ করে সরকার গঠন করেছে। এ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, যেখানে ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তারেক রহমান ও বিএনপির প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছে।
তিনি আগামী ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফরকে সফল ও সার্থক করতে চিতলমারী উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের সাথে একাত্ম হয়ে উপজেলা মহিলা দলের সকল নেত্রী ও কর্মীকে সুশৃঙ্খলভাবে পথসভায় উপস্থিত থাকার জোরালো আহ্বান জানান।
উক্ত প্রস্তুতি সভা ও আনন্দ র্যালির সার্বিক আয়োজনে ছিল চিতলমারী উপজেলা মহিলা দল।