ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ছয়ানি গ্রামের হাজু ক্বারির বাড়িতে অসহায় এক পরিবারকে জিম্মি করে নিজের ভিটা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও জমিজমা দখলের ষড়যন্ত্রের ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে । জানা গেছে পরিবারের উপার্জনক্ষম ও অভিভাবকতুল্য পুরুষ সদস্যরা বাড়ি না থাকার সুযোগে একটি প্রভাবশালী ভূমি দস্যু চক্র স্থানীয় আশরাফ আলী (৭০) নামের এক ব্যাক্তির পরিবার ও তার স্ত্রীর মনোয়ারা খাতুনের (৪৮) ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে নিজ বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করে জোরপূর্বক জমি দখলের নিয়মিত পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে ।
নির্যাতন ও জোরপূর্বক জমি দখলচেষ্টার সাথে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন মকবুল হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম ,মরহুম সাইফুল ইসলামের ছেলে সবুজ মিয়া ও আনারুল ইসলাম, মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে নজরুল ইসলাম এবং নজরুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা খাতুন। এঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একই গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারে চাচাত ভাই ।
জমি দখলে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাড়ির রাস্তা আটকে আশরাফ আলীর পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় স্বাভাবিক জীবনে চলাফেরায় বেগ পেহাতে হচ্ছে পরিবারটির। নিজের বাড়ির থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ থাকায় চলাফেরার কাজে ব্যবহার করেন অন্যের বাড়ির আঙ্গিনা অথবা বর্জ্রযুক্ত জঙ্গল দিয়ে । এতে জনজীবনে বাকস্বাধীনতা হুমকির মুখে পরেছে বলে মনে করেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ । এ ব্যপারে কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলতে গেলে তারা চরম হতাশা ও উধ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আলোচনা করতে দেখা গেছে এই চক্রের মূল হোতা হাবিবুর রহমান , রফিকুল ইসলাম , মাষ্টার মাইন্ড সবুজ মিয়া ও আনারুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম সমাজের কাউকেই তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়া নির্যাতন চালায় দিনের পর দিন। বিষয়টিকে ঘিরে আলোচনার গুঞ্জন রয়েছে কৃষক শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে। সংখ্যায় বেশি সদস্য বেশি থাকার দাপটেই চলে অপরাধ তাদের এসব কাজে সহযোগিতার ব্যস্থ থাকেন বাড়ি সদস্যরাও ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফ আলীর তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে প্রবাসে এবং মেজো ছেলে ঢাকায় চাকরি করেন। অন্যদিকে, একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। বাড়িতে বৃদ্ধ আশরাফ আলী ও তার স্ত্রী বসবাস করছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অনুপস্থিতির এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি দখলবাজ চক্র।
ভুক্তভোগী আশরাফ আলীর মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার বাবা একজন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ । আমার বাবার আপন বড় ভাইও মারা গেছেন। বর্তমানে পরিবারে আর কেউ না থাকায়, আমার বাবার চাচাতো ভাইয়ের ছেলেরা ও তাদের সহযোগীরা বাবাকে একা পেয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি গ্রাস করার ষড়যন্ত্র করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা বাড়ির চতুর্দিকের চলাচলের রাস্তা বাঁশ ও কাঁটা দিয়ে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এমনকি আরও জমি দখল করতে বিভিন্ন কায়দায় বাবাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। বাধা দিতে গেলেই তাদের ওপর চড়াও হয়। বলা হয় তুই একা মানুষ, তোকে মেরে ফেললেও কেউ কিছু করতে পারবে না। প্রকাশ্য এমন প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ওই বৃদ্ধ পিতা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন অসহায় বৃদ্ধকে বাড়িতে একা পেয়ে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়া চরম অমানবিক ও গুরুতর অপরাধ। প্রবাসীর পরিবার ও কর্মজীবী সন্তানের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে যারা এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী।