চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার মাদক কেনাবেচার স্বর্গরাজ্য খ্যাত ডাকবাংলা বার্মা কলোনিতে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে চলছে মাদকদ্রব্য জুয়া, ইয়াবাসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পুলিশের অভিযানের পর পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত মাদক কারবারিরা।
দিনের পর দিন প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত মাদক কারবারি চক্র কলোনিকে কেন্দ্র করে ইয়াবা, গঞ্জা ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। কলোনির অলিগলিতে বহিরাগত মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে এলাকার যুবসমাজ ও উদীয়মান প্রজন্ম দ্রুত ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে।
গোপন সূত্রে জানা যায়, ঐ কলোনির লাকি আকতার নামে শীর্ষ মাদক কারবারি ও চোলাই মদ বিক্রেতা।দীর্ঘদিন ধরে এসব মাদকদ্রব্য বিক্রির সাথে জড়িত সে৷ এবং এসব মাদক বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। একাধিক বার সে আটক হলেও, জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারো জড়িয়ে পড়েন মাদক বিক্রিতে৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই বার্মা কলোনি এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে সন্দেহভাজন লোকজনের সমাগম ঘটে। মাদক কারবারিরা এতটাই বেপরোয়া যে, প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এতে পুরো এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, চোখের সামনে তরুণ প্রজন্ম মাদকের গ্রাসে চলে গেলেও সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে দোহাজারী ডাকবাংলা বার্মা কলোনি ও এর আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হলে । মাদকের এই অভয়ারণ্য গুঁড়িয়ে দিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। গত দুই আড়াই মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এবং ৩/৪শ' মাদক কারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই