কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে এলে সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি আজমায়ি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উদ্দেশে এ হুঁশিয়ারি দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আলি আজমায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আসার অপেক্ষায় রয়েছে ইরানি বাহিনী। সেখানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এলে সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিজেদের দুর্বলতার কারণে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কাছাকাছি আসতে সাহস পাচ্ছে না।

ইরানি এই কমান্ডার আরও দাবি করেন, ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আলি আজমায়ি বলেন, এই নৌপথ খোলা নাকি বন্ধ এবং কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা দেখতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সেখানে আসতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি আইআরজিসির নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করে সেন্টকম।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। এ পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের উল্লেখযোগ্য অংশ চলাচল করে। ফলে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।