সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করে উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা মেধাবী শিক্ষার্থী মিলি রানী চন্দকে সম্মাননা ও বই উপহার দিয়েছে নেত্রকোনার কলমাকান্দার সামাজিক সংগঠন ‘মানবতার দুর্গ সমাজকল্যাণ সংগঠন’।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে মধ্যনগর উপজেলার গলহা গ্রামে শিক্ষার্থীর নিজ বাড়িতে গিয়ে তার ও তার মায়ের হাতে সম্মাননা ও বই উপহার তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মিলি রানী চন্দ উপজেলার গলহা উচ্চবিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জনের পাশাপাশি পুরো মধ্যনগর উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সে। তবে তার এই সাফল্যের প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে উৎসাহিত করার মতো কোনো সম্মাননা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মানবতার দুর্গ সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আশিকুর রহমানসহ সংগঠনের সদস্যদের নজরে আসে। পরে শিক্ষার্থীর মেধা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে উৎসাহিত করতে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আশিকুর রহমান, সহসভাপতি শাহাদাৎ হোসেন, কার্যক্রম বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক রাফিন মুন্না ও মোস্তাকিম শেখ শুভ, শিক্ষা বিষয়ক সমন্বয়ক মীর শামীম আহমেদ সৌরভ, ক্রীড়া বিষয়ক সমন্বয়ক আরিফ মিয়া, সমাজসেবা বিষয়ক সমন্বয়ক সোহাগ মিয়া এবং দুর্যোগ বিষয়ক সমন্বয়ক হেলিম মিয়া। এ সময় মিলি রানী চন্দের মা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গলহা বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সংগঠনের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সম্পদ তার মেধা, পরিশ্রম ও স্বপ্ন। সেই মেধাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে উৎসাহিত করা সমাজের সবার দায়িত্ব। এই অর্জন শুধু তার একার নয়, এই অর্জন তার পরিবারের, তার সমাজের।”
কার্যক্রম বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক রাফিন মুন্না বলেন, “আমরা আশা করি, মিলি রানী চন্দের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মাননা প্রদানে আরও আন্তরিক হবে।”
সমন্বয়ক মোস্তাকিম শেখ শুভ বলেন, “মিলি রানী চন্দের আগামী দিনের পথচলা সাফল্যমণ্ডিত হোক। সে যেন ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে পরিবার, বিদ্যালয় ও পুরো মধ্যনগর উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সম্মাননা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিলি রানী চন্দের মা বলেন, “আমার মেয়ে জীবনে এই প্রথম কোনো সম্মাননা পেয়েছে। আমরা এই ভালোবাসা ও সহযোগিতার কথা আজীবন মনে রাখব।”
মিলি রানী চন্দও মানবতার দুর্গ সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলে, “মানবতার দুর্গ প্রথমবারের মতো আমার অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমি এই সংগঠনের সফলতা কামনা করি।”
শিক্ষার্থীদের মেধা ও অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে উৎসাহ জোগানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে এবং মেধাবীদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাতে ভূমিকা রাখতে পারে।