মূল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে পাহাড়ি জনপথকে আবারো অশান্ত করে তোলা হয়েছে। গত কয়েকদিনে টানা অবরোধের কারণে পাহাড়ি পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে পাহাড়ি পর্যটন শিল্প। অনেক আগে থেকেই পাহাড়ি সমস্যা নিয়ে বাঙালি চাকমা ত্রিপুরাদের মধ্যে প্রায় সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এতে নিহত হয়েছে অনেক পাহাড়ি এবং বাঙালি। চলমান সমস্যাকে প্রাধান্য না দিয়ে ইতিমধ্যে সমাধান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান পাহাড়িরা মেনে নিচ্ছে না বলেই সংঘর্ষ ঘটে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারা তাদের জমির ন্যায্য হিসাব বুঝে নিতে চাই মালিকানা হিসেবে। কিন্তু তার যথাযথ ব্যবস্থা সরকার না নেয়ার কারণে বারবার এ এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাহাড়ি জনপদে হঠাৎ করে সংঘর্ষের ঘটনায় পর্যটন ব্যবসায়ী ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে গেছে। এতে পর্যটন শিল্প থেকে আয়কৃত রাজস্ব হারাতে পারে সরকার। চলতি পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে অক্টোবর মাস থেকেই আর এর মধ্যে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনপথে অশান্ত হওয়ার পরিস্থিতি।
রাঙ্গামাটির সাজেক এলাকায় অনির্দিষ্টকালের এই অবরোধকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ পিপাসুদের মধ্যে এক ধরনের ভয়-ভীতি কাজ করে যাচ্ছে। প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে সাজেক এলাকায় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এতে বেশ কয়েকদিন ধরে টানা উত্তেজনায় পর্যটক আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
খোকন চাকমা নামের এক পাহাড়ি অধিবাসী বার্তা বিচিত্রাকে বলেন আমরা যারা পাহাড়ে বসবাস করি তারা মূলত জমির ন্যায্য হিসাব বুঝে নিতে চাই এবং বারবার এটা নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক পাহাড়ি এবং বাঙালি নিহতের মত ঘটনা ঘটেছে। অথচ এর সুষ্ঠু সমাধান করতে কেউ এগিয়ে আসছে না তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। পাহাড়িদের ন্যায্য হিসাব নিয়ে কোন সরকার সঠিকভাবে কাজ করেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সব সরকার বারবার তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে সঠিক সময় কাজ না করার কারণে বারবার এ ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী জয়ন্ত বার্তা বিচিত্রাকে বলেন আমরা সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের জীবনমান নিয়ে কথা বলে আসছি কিন্তু সরকার পাহাড়ি আদিবাসীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলেও তা না দেয়ার কারণে সরকার এবং পাহাড়ি আদিবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটে। এসব বিষয় নিয়ে বারবার বৈঠক করার পরেও সুষ্ঠু কোন সমাধানে আসছে না কোন পক্ষ। বিপুল পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এ পাহাড়ি জনপদ। এ জনপদকে শান্ত রেখে সরকার কাজ করলে সরকারের অধিকতর আয় বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।