চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের দুর্নীতির চিত্র উভয় ভয়াবহ। কারাগারের অভ্যন্তরে থাকা হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা পায় না বন্দিরা। আবার অনেক সুস্থ আসামি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হাসপাতালে সিট ভাড়া করে থাকে অথচ অসুস্থ মূল আসামিরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তাররা আসামিদের সাথে বিরূপ আচরণ করে সব সময়। প্রয়োজনীয় ওষুধ আসামিদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তার সিংহভাগ চলে যায় অবৈধ পথে। এতে চিকিৎসার প্রয়োজনে যেসব ঔষধ দরকার তা পাই না আসামিরা। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় সকল প্রকারের ওষুধ বরাদ্দ থাকে কারাগারের ভেতরে থাকা আসামিদের জন্য। কারা হাসপাতালে দায়িত্বরত যে সকল যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামি দায়িত্ব পালন করেন তারা সাধারণ আসামির সাথে মার মুখী আচরণ করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রহমত নামের এক আসামি বার্তা বিচিত্রাকে বলেন কারাগারের ভেতরে পান থেকে চুন কসলেই ক্যাশ টেবিলে নিয়ে শাস্তি প্রদান করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত সুবেদার এবং কারারক্ষীরা সাধারণ আসামিদের কোন বক্তব্য গ্রহণ না করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কথার মধ্য দিয়ে সাধারণ আসামিদের শাস্তি প্রদান করে। হাসপাতালে গেলে সঠিকভাবে ওষুধ পাওয়া যায় না সকল রোগের। আসামিদের জন্য বরাদ্দকৃত ও ওষুধ কারাগারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা বাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যায় বলে জানা যায়। আবার অবৈধ পথে অনেক দামি ওষুধ নগদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। ডাক্তাররা যথা সময়ে রোগী না দেখারও অভিযোগ রয়েছে অনেক। ডাক্তার কর্মকর্তা এবং যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত কয়েদিরা একত্র হয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে কারাগারের ভেতরে অবৈধ কর্মকান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের এই অবৈধ লেনদেনের ভাগ কারা অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায় বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
বার্তা বিচিত্রার অনুসন্ধানে আরো জানা যায় অনেক ভিআইপি বন্দি সুস্থ থাকলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কারা হাসপাতালের সিট দখল করে থাকে সব সময়। যার জন্য সাধারণ আসামি ও কয়েদিরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আগামীতে বার্তা বিচিত্রায় এর বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।