জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। প্রশাসন একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের হাতে। এর কারণ হিসেবে অনুসন্ধানে জানা যায় স্থানীয় কিছু পাতিনেতা এবং সন্ত্রাসীর হাতে কিশোর গেংয়ের সদস্যরা পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় ক্ষমতাকে প্রদর্শন করার জন্য রাজনৈতিক নামধারী কিছু ব্যক্তি এদেরকে হাতে রেখে বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছে তাই প্রশাসন তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসলে ফোন আসে বড় ভাইদের অর্থাৎ রাজনৈতিক নেতাদের যে তাদেরকে ছেড়ে দেন তারা আমাদের ছোট ভাই। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কিছুদিনের মধ্যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি ক্ষমতা প্রদর্শন টেন্ডারবাজি এসবের সাথে কিশোর গেংয়ের সদস্যরা জড়িয়ে পড়ার কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। কিছু কিছু সংসদ সদস্য ও জড়িত এসব কর্মকান্ডে। জেলার উপজেলা সমূহ এবং মহানগরীর সড়কগুলোতে চুরি চিন্তাই এর সাথে জড়িত কিশোর গ্যাং এর এসব সদস্যরা। এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তাদেরকে ব্যবহার করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
কয়েকটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা বিচিত্রাকে বলেন আমরা একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়েছি এসব কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের হাতে তার কারণ হিসেবে তারা বলেন প্রায় প্রতিদিন দিনে এবং রাতে কিশোর গেংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এতে সাথে সাথে ফোন চলে আসে রাজনৈতিক উচ্চ পদস্থ নেতাদের।
এসব নেতারা মুখে এবং বিভিন্ন বক্তব্যে কিশোর গেং এর সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকলেও থানা পুলিশের কাছ থেকে সদস্যদের ছাড়িয়ে নিতে বেশ তৎপর হতে দেখা যায়। এতে দিনের পর দিন তাদের দৌরাত্ব বেড়েই চলেছে। এসব সদস্যদের কারণে সড়কে চলাফেরা দায় হয়ে পড়েছে নারীদের। সব সময় ইভটিজিং এর কবলে পড়তে হচ্ছে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ছাত্রীদের। অভিভাবকরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে এদের হাতে।
কোনরকম প্রতিবাদ করলেই তাদের উপর নেমে আসে হামলা পাল্টা হামলা। এতে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে অনেক জায়গায় উড়ো চিঠি দিয়েছে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা। নগরীর কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতিদিন হামলার শিকার হয় সাধারণ মানুষ এবং কোথাও না কোথাও এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কোন হতে দেখা গেছে অনেকেই। সরকারের পদক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে বলে সাধারণ মানুষ বলেন এসব কর্মকাণ্ড বলতে খুব সহসা যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করানো হয় তাহলে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা।