বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১নং বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিনা ভোটের বিতর্কিত চেয়ারম্যান এবং উপজেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সরদার মাসুদকে (যিনি এলাকায় ‘টেরা মাসুদ’ নামে পরিচিত) ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে তাঁর ও তাঁর অনুসারী সন্ত্রাসীদের দ্বারা স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এই এলাকায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ওয়াজ মাহফিল বা ইসলাম প্রচারের মতো ধর্মীয় কাজের জন্যও প্রশাসন ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনুমতির নামে বাধা সৃষ্টি করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান মাসুদ ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর স্টিমরোলার চালিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে ভয়ে অনেক নেতাকর্মী নিজ বাড়িতে থাকতে পারেননি; এমনকি জীবন রক্ষার্থে ধানক্ষেত ও বনে-জঙ্গলে লুকিয়ে থেকেও রেহাই পাননি তাঁরা।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলেও চেয়ারম্যান মাসুদ এলাকা ছেড়ে কোথাও যাননি। টাকার জোরে এবং ক্ষমতার রদবদলেও তিনি এলাকায় বহাল তবিয়তে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। এলাকার লোকজনের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল যে, টাকার বিনিময়ে সবকিছুই কেনা সম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, সরকার পরিবর্তনের পরও মাসুদের ঠিকাদারি কাজকর্মে কোনো ভাটা পড়েনি। উল্টো তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সামনে ক্ষমতা জাহির করে নিজের ঠিকাদারি কাজ হাসিল করে আসছিলেন। কার ইন্ধনে এবং কার সহযোগিতায় তিনি এতদিন বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন—তা নিয়েও এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, গায়ে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ট্যাগ না থাকলেও এই ধরনের স্বৈরাচারের দোসর ও সুবিধাভোগীরা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে গেছে।
বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের সাধারণ জনতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অতীতে যারা এসব স্বৈরাচারের দোসরদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও পুনর্বাসনে সহায়তা করেছে, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ এখন এই গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়ে এলাকায় শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।