বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর প্রতিনিধির কাছ থেকে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. খায়রুল ইসলাম গত ৫ অক্টোবর ২৪ ক্যারেটের ১০টি তেজাবি স্বর্ণের বার তাঁর খালাতো ভাই মো. বাপ্পি হোসেনের (২৭) মাধ্যমে জয়পুরহাটে পাঠান। স্বর্ণগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা।
সেদিন বেলা ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বাপ্পি শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে ৩ থেকে ৪ জন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাস থামান। পরে তাঁকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে শিবগঞ্জের বালা রোডের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তাঁরা।
এ ঘটনায় খায়রুল ইসলাম অভিযোগ করলে শিবগঞ্জ থানায় ২৭ অক্টোবর মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ৩৩। এতে দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএমের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ডিবির এসআই মো. জাহাঙ্গীর করিব ও এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকার মো. সাদিকুল ইসলাম ও মো. আলমগীর হোসেন (৪৩) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকার মো. রবিউল ইসলাম (২৬) ও বালিঘাটা বাজার এলাকার মো. আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে আলমগীরের বাড়ি থেকে ২৯ লাখ টাকা, সাদিকুলের বাড়ি থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং শাহিদের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা টাকার পরিমাণ ৮৮ লাখ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আলমগীরের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।