নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মদনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় নির্মিত বাঁধের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারের স্বেচ্ছাচারিতা, তদারকির অভাব এবং কাজে স্বচ্ছতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকল্পের কাজের মান যাচাইয়ের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য সরকারি বরাদ্দে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজের কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখা হয়নি। তাঁদের দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ও ভেজা বালু ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কাজের যথাযথ তদারকি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। ফলে বাঁধটি নদীভাঙন থেকে বিদ্যালয়কে কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই বিদ্যালয়টি নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাক। কিন্তু যেভাবে কাজ করা হয়েছে, তাতে বাঁধটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হলে আরও ভালো কাজ করা সম্ভব ছিল।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। আমরা চাই, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক।”
মানববন্ধন থেকে গ্রামবাসী তিনটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—নিরপেক্ষভাবে প্রকল্পের কাজের মান যাচাই, প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ও ব্যয়ের সঠিক হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে।