শীত মৌসুমের প্রায় সকল প্রকার সবজি চেয়ে গেছে চট্টগ্রামের খুচরা এবং পাইকারি বাজারগুলোতে। মৌসুমী সকল সবজি চোখের সামনে থাকলেও অতিরিক্ত দামের কারণে স্বস্তিতে নেই ক্রেতা সাধারন।
অনুসন্ধানে জানা যায় মাঠ পর্যায়ে থেকে শীতকালীন সকল সবজি অল্প মূল্যে ক্রয় করা হলেও ক্রেতা পর্যায়ে পৌঁছাতে চারগুন মূল্য বৃদ্ধি হয়ে যায়। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা মধ্যপন্থা অবলম্বন করে সিন্ডিকেট তৈরীর মাধ্যমে প্রতিটি সবজির মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত কেউ চাইলেও অল্প মূল্য লাভে সবজি বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই কারণ নিয়ন্ত্রণ থেকে যায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাতে।
নগরীর পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার হলো সবচাইতে বড় আড়ত এখান থেকে চট্টগ্রামের খুচরা ব্যবসায়ীরা সকল প্রকারের সবজি সংগ্রহ করে সাধারণ ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। রিয়াজউদ্দিন বাজার পরিদর্শন করে দেখা যায় প্রতিদিন সকাল হলেই খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সকল প্রকারের সবজি সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাধ্যমে খুচরা দোকানগুলোতে নিয়ে যায় এতে সকল সবজি কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেশি লাগে বিক্রি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা। শসা প্রতি কেজি পাইকারি বাজারে ৩০ টাকা সেটা খুচরা পর্যায়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। প্রায় সকল প্রকারের সবজির মূল্য এভাবেই নির্ধারণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণকারীরা।
জেলা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিদপ্তর দ্রব্যমূল্য বিষয়ে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও তা একেবারেই লোক দেখানো এতে তেমন কোন কাজ হয় না বলে ক্রেতা সাধারণের অভিযোগ যদি কোন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় সাথে সাথে তারা পণ্যগুলোতে অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি করে দিয়ে জরিমানার টাকা সমন্বয় করে ফেলে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করে বার্তা বিচিত্রাকে বলে। চট্টগ্রামের বাইরে থেকে যে সমস্ত সবজি পাইকারি বাজারে প্রবেশ করে তার সঠিক মূল্য কৃষকরা পায়না বলে অনেক কৃষক দাবি করেন। কৃষকদের অভিযোগ দেশের মাঠ পর্যায়ে অনেক কৃষক দাদন নিয়ে সবজি চাষ করে এতে চাষিরা বাধ্য হয় যাদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে চাষ করেছে তাদের কাছে সবজি বিক্রি করতে। এতে দাদন ব্যবসায়ীরা তাদের নির্ধারিত দামে সবজি ক্রয় করে উচ্চমূল্যে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজিগুলো বিক্রি করে থাকে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম জানান শীতের সকল সবজি এখন বাজারে চেয়ে গেছে কিন্তু দাম তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি রয়েছে কারণ মাঠ পর্যায়ে দেখে যারা সবজি সংগ্রহ করে পাইকারি বাজারে নিয়ে আসে তারা মধ্যপন্থা অবলম্বন করে সবজির দাম নির্ধারণ করার কারণে খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ে। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি এবং সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করে তা মনিটারিং করার ব্যবস্থা করলে হয়তো দাম শিথিল থাকতে পারে। একেক বাজারে সবজির দাম একেক রকম নিচে অনেক ব্যবসায়ী যদিও সকল সবজি রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে সংগ্রহ করে কিন্তু এলাকা বেঁধে সবজির দাম হয়ে যায় একেক রকম। সঠিক মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা যেমন ইচ্ছা তেমন দাম আদায় করে ক্রেতা সাধারণের কাছ থেকে বলেও খোরশেদ আলম জানান।