সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের নতুন বুড়িয়া উপ-ধর্মপল্লীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ৩৭তম ফাতেমা রানীর তীর্থ উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মিস্টার পিউস হালদারের সভাপতিত্বে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ও শনিবার (৩১ অক্টোবর) নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব উদযাপিত হয়। এতে বড়দল ধর্মপল্লীর ফাদার ও সিস্টারগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ বছরের তীর্থ উৎসবের মূলসুর ছিল—“পারিবারিক প্রার্থনা জীবনে মা-মারিয়া আমাদের আদর্শ”। উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল—“আশার তীর্থযাত্রী”।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় পুরাতন বুড়িয়া থেকে মা-মারিয়ার মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন বুড়িয়া তীর্থভূমিতে আগমন করা হয়।
বিকেল ৫টায় রোজারিমালা প্রার্থনা ও নির্জন ধ্যান অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্ব পরিচালনা করে বড়দল মা-মারিয়ার সেনা সংঘ। রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় যীশুর নামকীর্তন।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে তীর্থযাত্রী খ্রিস্টভক্তদের আগমন শুরু হয়। সকাল ১০টায় বড়দল গির্জা প্রাঙ্গণ থেকে মা-মারিয়ার মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা করে নতুন বুড়িয়া তীর্থভূমিতে আগমন করা হয়। সকাল ১১টায় জপমালা প্রার্থনা ও মানত দান অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ‘পারিবারিক প্রার্থনা জীবনে মা-মারিয়া আমাদের আদর্শ’ এবং পরিবার গঠনে মা-মারিয়ার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন রেভারেন্ড ফাদার জয় শলোমন মন্ডল, পরিচালক, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার মাইনর সেমিনারি, খুলনা।
দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে পবিত্র খ্রিস্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌরহিত্য করেন রেভারেন্ড ফাদার জুয়েল ম্যাকফিস্ট, পালক পুরোহিত, বড়দল ধর্মপল্লী। পরে দুপুর ২টায় তীর্থযাত্রীদের জন্য আহারের ব্যবস্থা করা হয়।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে ধর্মীয় প্রার্থনা, শোভাযাত্রা, যীশুর নামকীর্তন, জপমালা প্রার্থনা ও পবিত্র খ্রিস্টযাগসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন বুড়িয়া উপ-ধর্মপল্লীর সকল খ্রিস্টভক্তের উদ্যোগে আয়োজিত এ তীর্থ উৎসবে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত খ্রিস্টভক্তরা অংশগ্রহণ করেন।
পুরো উৎসবজুড়ে মা-মারিয়ার প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।