ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আরও এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা Mossad-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে এরফান কিয়ানি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
শনিবার সকালে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখার পর তার সাজা কার্যকর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম Fars News Agency এবং Tasnim News Agency।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এরফান কিয়ানি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ ছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি Israel।
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে মূল কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নকে দায়ী করা হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া অসন্তোষ ধীরে ধীরে বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নেয়।
বিশেষ করে ইরানি মুদ্রার মান ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই অসন্তোষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেয় ইরানি সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বহু মানুষ গ্রেপ্তার হন এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি, সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরান সরকার বারবার দাবি করে আসছে, বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির প্রভাব রয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে মানবাধিকার ইস্যুতে আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান অর্থনৈতিক চাপ, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ইরানের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।