এস আই খান:
নরসিংদী জেলা বিএনপির অভিভাবক ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের প্রণীত ছাত্রদলের 'বিবাহিত' নীতিমালা এখন তার নিজের জেলাতেই বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালের ষষ্ঠ কাউন্সিলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যে কঠোর 'বিবাহিত ক্রাইটেরিয়া' কার্যকর করেছিলেন, তা নিয়ে এখন নরসিংদী জেলা ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
খাইরুল কবির খোকনকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, "জনাব খায়রুল কবির খোকন ভাই, ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে আপনি ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান। এটা আমাদের গর্ব। কিন্তু একজন যোগ্য নেতৃত্বকে ঠেকানোর জন্য কতিপয় দালালের ফর্মুলায় আপনারা যে 'বিবাহিত ক্রাইটেরিয়া' তৈরি করেছিলেন, তার প্রয়োগ এখন কোথায়?"
তৃণমূলের অভিযোগ, খোকন সাহেবের উপস্থিতিতেই সেই সময় নিয়ম করা হয়েছিল—বিবাহিতরা ছাত্রদল করতে পারবে না। কিন্তু এখন নিজ জেলা নরসিংদীতে সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনেককে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে নেতা-কর্মীরা দাবি করছেন। তাদের প্রশ্ন, এই আয়োজন কি শুধুমাত্র জনপ্রিয় নেতা তালুকদারকে ঠেকানোর জন্যই ছিল?
নরসিংদী জেলার ছাত্রদলের একাধিক নেতা-কর্মী খাইরুল কবির খোকনের এই দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন।
কামরুল জামান নামে এক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির আদর্শ ও নৈতিকতা কিছু 'হাইব্রিড' নেতার কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও মো: নাছির সরকার শাওন সরাসরি আঙুল তুলেছেন যে, ১/১১ থেকে যারা রাজপথে ছিল, তাদের অবমূল্যায়ন করে একটি 'গোল্ডেন জেনারেশন' তকমা দিয়ে ছাত্রদলকে বিভক্ত করা হয়েছে।
অপর এক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ নূর করিম তানজিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মের দোহাই দিয়ে তাকে বাদ দেওয়া হলেও অনেক বিবাহিত কেন্দ্রীয় নেতা বহাল তবিয়তে আছেন।
বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের দাবি স্পষ্ট—খায়রুল কবির খোকনকে তার নিজের জেলায় 'ইনসাফ' বা ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে। তাদের মতে, বিয়ে করার পর এক মিনিটের জন্যও ছাত্রদল করার কারো নৈতিক অধিকার নেই। যদি কেন্দ্রীয় নীতি অনুযায়ী বিবাহিতরা ছাত্রদল করতে না পারে, তবে নরসিংদীতেও তার কঠোর প্রতিফলন দেখতে চায় তৃণমূল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের জেলায় ছাত্ররাজনীতির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে খাইরুল কবির খোকন এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে কেন্দ্রীয় নীতিমালা, অন্যদিকে স্থানীয় নেতৃত্ব রক্ষা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে নরসিংদী ছাত্রদলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সমাধান না হলে তৃণমূলের ক্ষোভ দলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এই বিষয়ে জানতে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও নরসিংদী-১ আসনের সাংসদ এবং ২০১৯ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ৬ষ্ঠ কাউন্সিল পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান খায়রুল কবির খোকনের যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।