মোঃ মাইন উদ্দিন :
বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম বকুল।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৩ ঘটিকায় স্থানীয় ডুমরাকান্দা বাজারে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে বকুল বলেন, গত ৯ ও ১০ মে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে “সাংবাদিককে তুলে নিয়ে নির্যাতন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এসব প্রতিবেদনে তাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, নিজেকে সাংবাদিক ও বিএনপির কর্মী পরিচয়দানকারী স্থানীয় নাহিদুল হাসান রুকন এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে এসব সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। বকুলের ভাষ্য অনুযায়ী, রুকন এলাকায় মাদকসেবন, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নেওয়ায় তাকে টার্গেট করা হয়েছে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল, এলাকায় তেল মজুদ, অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাদক ব্যবসার খবর প্রকাশ করায় রুকনকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে মারধর করা হয়। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বকুল বলেন, তিনি কখনোই তেল মজুদ, মাদক ব্যবসা কিংবা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
তিনি দাবি করেন, স্থানীয়ভাবে রুকনের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর প্রায় দুই মাস আগে তাকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপর থেকেই রুকন তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করে। বকুলের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ডুমরাকান্দা বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সেখানে রুকন নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং ফেসবুকে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও লাইভ মুছে ফেলেন।
এসময় বকুল বা তার অনুসারীরা কাউকে মারধর করেননি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মীমাংসার সময় উপস্থিত এক যুবদল নেতা রুকনকে দুইটি থাপ্পড় দিলেও সেটি ছিল পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে। পরে একটি ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বকুল। সংবাদ সম্মেলনে বকুল আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে এলাকায় ‘মাস্তানতন্ত্র’, চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তিনি দাবি করেন, কোনো সংবাদেই এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। নাহিদুল হাসান রুকনকে নিয়ে বকুল বলেন, তিনি বিএনপির কোনো ইউনিটের সদস্য নন। বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার পরিবারের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সুবিধা নিতে রুকন বিএনপির পরিচয় ব্যবহার শুরু করেন বলেও অভিযোগ তোলেন বকুল।
এসময় তিনি আরও দাবি করেন, রুকন সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়ার একাধিক অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। ডুমরাকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ রতন মিয়া অভিযোগ করেন, তার ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখিয়ে রুকন তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেন হাজী আইন উদ্দিন ও মাতৃ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক লিটন কর। তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশ বা মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে রুকন টাকা আদায় করেছেন। সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটি খেলাধুলার আয়োজনের নামে তার কাছ থেকেও ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল, যা পরে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি খাইরুল ইসলাম বকুলকে ভালো মানুষ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। এ প্রসঙ্গে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কুলিয়ারচর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, খাইরুল ইসলাম বকুল উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের উত্তর সালুয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।