জনস্বার্থে বদলি; একদিন পর বাতিল- নরসিংদীতে তোলপাড়

Date: 2026-05-02
news-banner

নরসিংদী প্রতিনিধি: 

“মানি ইজ পাওয়ার, পাওয়ার ইজ মানি”—প্রবাদটি যেন বাস্তব রূপ পেয়েছে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. মনসুর আহমেদের ক্ষেত্রে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসলেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্যজনক পরিস্থিতি।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মনসুর আহমেদকে নেত্রকোনার কমলাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আদেশ জারির তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বদলির আদেশ জারির মাত্র একদিন পরই, ২৩ এপ্রিল সেটি রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত ঘিরে নরসিংদীজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয়দের দাবি, মনসুর আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বদলির আদেশ হঠাৎ বাতিল হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যে টাকার কুমির বনে যাওয়া মনসুর সেই টাকা বিনিময়ে কোন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গিয়ে এই বদলী ঠেকিয়েছেন। 

বদলি বাতিলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই এটিকে স্বাস্থ্য বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। কারও কারও মতে, বদলির আদেশ দিয়ে পরদিনই তা বাতিল করা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের ‘প্রশাসনিক তামাশা’।

এ বিষয়ে কমলাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, “মনসুর আহমেদকে আমাদের এখানে বদলি করা হয়েছে বলে আদেশ পেয়েছি। তবে তিনি এখনো যোগদান করেননি এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।”

নরসিংদীর সিভিল সার্জন মো. বুলবুল কবীর বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে শুনেছি, ২৩ এপ্রিল তার বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যথায় স্বাস্থ্য বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

Leave Your Comments