পুলক রায়,শেরপুরঃ
শেরপুরে নিখোঁজের পাঁচদিন পর ঘাসক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া যুবক আলামিন হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল প্রেমের সম্পর্ক, অপমান আর প্রতিশোধের জটিল গল্প। চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী শুভ ও তার সহযোগী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই জামালপুর।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে পিবিআই জামালপুর কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে শুভর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা বিরোধ চলছিল। আলামিন একাধিকবার শুভকে সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলেছিল। এতে ক্ষোভ জমতে থাকে শুভর মনে।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ করার জন্য আলামিনের কাছে এক লাখ টাকা চেয়েছিল। কিন্তু আলামিন টাকা দেওয়ার পরিবর্তে শুভর বোনকে নিয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিত দেয়। সেই অপমানই পরে ভয়াবহ প্রতিশোধের রূপ নেয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুভ তার পরিচিত সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার প্রলোভন দেয়। এরপর গত ১৩ মে আলামিনকে মোটরসাইকেলে করে কৌশলে নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে আলামিন ফোনে ব্যস্ত থাকাকালে পেছন থেকে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে ধরা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় তাকে।
হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পাঁচদিন পর ১৮ মে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় এলাকার একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন নিহতের স্বজনরা।
ঘটনার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে শুভকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সম্রাটকে আটক করা হয়। তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে আদালতে নিয়ে গেলে প্রধান অভিযুক্ত শুভ স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। এছাড়া ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক শান্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, “ঘটনার পরপরই পৃথক টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যেই হত্যার মূল কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”