ভারতের কেরালায় বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ‘মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা’ সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও এই সংক্রমণের কিছু ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধিই এই রোগ বিস্তারের অন্যতম কারণ হতে পারে।
কী এই অ্যামিবা?
এই রোগের জন্য দায়ী এককোষী জীব ‘নিগ্লেরিয়া ফোলেরি’। এটি সাধারণত উষ্ণ ও বদ্ধ পানিতে বেঁচে থাকে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করে। পুকুর, নদী, হ্রদ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা সুইমিং পুল—সব জায়গাতেই এর উপস্থিতি থাকতে পারে।
দূষিত বা অপরিচ্ছন্ন পানিতে এই জীবাণু বেশি বৃদ্ধি পায় বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
কীভাবে সংক্রমণ হয়?
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অ্যামিবা সাধারণত নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। সেখানে এটি সিস্ট তৈরি করে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস (PAM)।
এই রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর জীবন রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
সতর্কতা ও প্রতিরোধ
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন—
-
সুইমিং পুলে নামার সময় নাকে পানি ঢোকা এড়িয়ে চলতে হবে
-
সম্ভব হলে নাকের ক্লিপ ব্যবহার করতে হবে
-
অপরিষ্কার বা ফুটানো ছাড়া পানি ব্যবহার না করা ভালো
-
পানির ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে
-
বদ্ধ ও অপরিচ্ছন্ন জলাশয়ে সাঁতার এড়িয়ে চলতে হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাক দিয়ে দূষিত পানি প্রবেশ করলেই মূলত ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে সাধারণভাবে পান করা পানি পাকস্থলীর অ্যাসিডে নিরাপদ থাকে।
কেরালার এই পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে।