সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং

Date: 2026-06-08
news-banner

চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছেছেন। সফরের শুরুতেই রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির নেতা Kim Jong-un এবং তাঁর স্ত্রী Ri Sol-ju।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, সি চিন পিংয়ের বিমান অবতরণের সময় কিম জং-উন করতালি দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, এ সময় উত্তর কোরিয়ার শিশুদের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হয়।

পিয়ংইয়ংয়ের কিম ইল সুং স্কয়ারে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানে অশ্বারোহী বাহিনী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার ভিডিওতে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ ফুল ও জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন জানানো হয়। এরপর দুই নেতা গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। এ সময় গার্ড সদস্যরা কোরীয় ভাষায় স্লোগান দেন—“কমরেড সি চিন পিংয়ের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।”

চলতি বছরে এটিই Xi Jinping-এর প্রথম বিদেশ সফর। একই সঙ্গে গত সাত বছরের মধ্যে এটি তাঁর প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। এর আগে তিনি বেইজিংয়ে পৃথকভাবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের ধারা চলছে। বেইজিং এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও জোরালো করার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সি চিন পিং সফরের আগে বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এখন “নতুন এক ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে” পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে যেকোনো আধিপত্যবাদ ও সামরিকতাবাদের বিরুদ্ধে দুই দেশ একসঙ্গে অবস্থান নেবে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে চীন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চাইছে এবং উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের কূটনৈতিক বলয়ের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

এদিকে সফরের ঠিক আগেই উত্তর কোরিয়া সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে একটি নতুন ১০ হাজার টন ওজনের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে এবং নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

দুই দিনের এই সফরে Xi Jinping এবং Kim Jong-un-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave Your Comments