বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম আলোচিত ও দক্ষ কর্মকর্তা, ঢাকা রেঞ্জের সদ্য সাবেক ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিককে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও তাকে কোনো নির্দিষ্ট ইউনিটে বা কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে তাকেসহ মোট ৫ জন ডিআইজি-কে গ্রেড-২ অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও রেজাউল করিম মল্লিকের ক্ষেত্রে কোনো নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ না করায় পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের নিয়ম অনুযায়ী, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থল স্পষ্ট করা হলেও রেজাউল করিম মল্লিকের নতুন কোনো উইন বা ইউনিটের দায়িত্ব নির্ধারণ না করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক আলোচনা তুঙ্গে।
পুলিশ সদরদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রেজাউল করিম মল্লিকের পদায়ন আটকে থাকার পেছনে প্রধানত দুটি বিষয় কাজ করছে। প্রথমত, পুলিশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ উইং বা ইউনিটের প্রধান হিসেবে তার নাম জোরেসোরে আলোচনায় রয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ মহলে তাকে একটি বড় দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও, ঠিক কোন ইউনিটে তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হবে তা নিয়ে কৌশলগত কিছু সমীকরণ মেলানো হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, পুলিশ প্রশাসনে ক্লিন ইমেজের এই কর্মকর্তার পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন রুখতে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি থাকাকালীন কিছু প্রশাসনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচার ও তদবিরের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কোনো কোনো সূত্রের দাবি, এই চক্রটিই তার নতুন পদায়নের ফাইলটি ধীরগতির করার জন্য মন্ত্রণালয়ে নানারকম মনগড়া অভিযোগ বা বাধা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
রেজাউল করিম মল্লিক ১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের মাধ্যমে বাহিনীতে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি ডিএমপির ডিবি প্রধান, সিআইডির ডিআইজি এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশের ভেঙে পড়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং ডিবির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ইমেজ মুছে সেবামুখী রূপ দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, বিগত সরকারের পুরো সময়জুড়ে তিনি চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ও পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। এমনকি এক পর্যায়ে তাকে চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে অব্যাহতিও দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৪ বছর আইনি লড়াই চালিয়ে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন এবং ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি পান।
বর্তমানে রেজাউল করিম মল্লিককে কোনো সুনির্দিষ্ট ইউনিটে পদায়ন না করায় তিনি নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত হিসেবে রিপোর্ট করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি একটি সাময়িক প্রক্রিয়া মাত্র। অতি দ্রুতই সরকারের উচ্চ মহলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশ বাহিনীকে গতিশীল করতে তাকে বড় এবং সংবেদনশীল কোনো ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে।