গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন ব্যাহত

Date: 2026-07-11
news-banner

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

উদ্বোধনের পর প্রথম উৎপাদন বছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে মুনাফার নজির গড়লেও চলতি অর্থবছরে উৎপাদনে পিছিয়ে পড়েছে নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। দীর্ঘ ৪০ দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী এ কারখানাটি নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
কারখানা সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে টানা ৪০ দিন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অর্থবছর শেষে উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন। ফলে প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এবং বছরে প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের স্বল্পতার কারণে চলতি অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
তবে নতুন অর্থবছরে ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা এবং যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রথম বছরেই কারখানাটি ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা দৈনিক ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষম ঘোড়াশাল সার কারখানা এবং ৩০০ মেট্রিক টন সক্ষমতার পলাশ সার কারখানা ভেঙে একীভূতভাবে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণ করা হয়।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক কারখানার উদ্বোধন হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।

Leave Your Comments