বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জার্মান ফুটবল কোচ রিয়াসাত ইসলাম খাতনের মতে, শক্তিশালী ফ্রান্সকে হারাতে পারলে মরক্কোই হবে বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার। বর্তমানে জার্মান ক্লাব এফএসভি উলফহাগেনের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রিয়াসাত এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
শৈশব ও কৈশোর জার্মানিতে কাটানো রিয়াসাত ফ্রেইবুর্গ একাডেমিতে ফুটবলের হাতেখড়ি নেন। খেলোয়াড়ি জীবনে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। একসময় বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখলেও জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়ে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমানে তার পারিবারিক বন্ধন মরক্কোর সঙ্গে গভীর। স্ত্রী মরক্কোর নাগরিক হওয়ায় দেশটির সঙ্গে তার আবেগঘন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে ফ্রান্স–মরক্কো ম্যাচটি তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ম্যাচ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রিয়াসাত বলেন, “আমি মরক্কোর পক্ষেই আছি। আশা করছি, তারা দারুণ লড়াই করে ২–১ ব্যবধানে জয় পাবে।”
তিনি জানান, এই ম্যাচটি শুধু তার জন্য নয়, দুই পরিবারের জন্যই আবেগের। “আমরা নিয়মিত মরক্কো যাই। দেশটির মানুষ, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা আমাদের ভীষণ ভালো লাগে। ধীরে ধীরে মরক্কোর প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়েছে,” বলেন তিনি।
মরক্কো দলের শক্তি সম্পর্কে রিয়াসাত বলেন, “তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি দলগত খেলা। আক্রমণ থেকে রক্ষণ—সব জায়গায় সবাই দায়িত্ব নিয়ে খেলে। একজন আরেকজনের জন্য লড়াই করে, এটিই তাদের সাফল্যের মূল রহস্য।”
তবে ফ্রান্সকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, “এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সই সবচেয়ে শক্তিশালী দল। প্রতিটি পজিশনে তাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। তাই মরক্কোকে সবদিকেই সতর্ক থাকতে হবে।”
ফ্রান্সের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমান দেম্বেলে ও বারকোলার মতো তারকাদের থামাতে কৌশল নিয়েও মত দেন তিনি। “রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ডের মধ্যে দূরত্ব কম রাখতে হবে এবং পুরো ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। শুধু রক্ষণে ভালো খেললেই হবে না, আক্রমণেও কার্যকর হতে হবে। জিততে হলে অন্তত দুটি গোল করতে হবে,” বলেন রিয়াসাত।
সবশেষে মরক্কোর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন দলীয় ঐক্যকে। “আমার মতে, মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ঐক্য। সবাই একসঙ্গে লড়ে—এই মানসিকতাই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ,” যোগ করেন তিনি।