আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়, ভিএআর সিদ্ধান্তে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

Date: 2026-07-08
news-banner

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পর নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে টুর্নামেন্ট। বিশেষ করে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) ব্যবহারের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে ম্যাচটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষক ও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।


যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মিশর শুরুতে এগিয়ে থাকলেও এক পর্যায়ে তাদের দ্বিতীয় গোলটি ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। অভিযোগ উঠেছে—অস্বাভাবিক দেরিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয় এবং পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয়।


এই ঘটনার পর মিশর শিবিরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে অভিযোগ করেন, “সম্ভবত তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখতে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, বড় তারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতি টুর্নামেন্টে রাখার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপে রাজনীতি ও ফুটবলের সীমারেখা আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনা বিতর্ক তৈরি করেছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে ভিএআর ইস্যু সামনে এলো।


শাংহাইভিত্তিক এমলিয়ন বিজনেস স্কুলের ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ সাইমন চ্যাডউইক বলেন, “বালোগান ঘটনার পর এখন বোঝা কঠিন—কোন সিদ্ধান্তগুলো নিরপেক্ষ এবং কোনগুলো নয়।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন মাঠের রেফারি সরাসরি কোনো ফাউল না দেখলেও পরে ভিএআর সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করলো। একই ম্যাচে আর্জেন্টিনার একটি গোলের আগে সম্ভাব্য ফাউল হলেও সেখানে ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।


তবে সব বিশ্লেষক একমত নন। ফুটবল বিশ্লেষক আলি এল গার্নি বলেন, “রেফারি ও ভিএআর—দুই পক্ষের সিদ্ধান্তই ৫০-৫০ ধরনের ছিল। আর্জেন্টিনা সেই সুবিধা পেয়েছে।”

অন্যদিকে পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহো এই ম্যাচকে “ডেলাইট রবারি” বলেও মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভিএআর প্রযুক্তি মূলত খেলার স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য চালু হলেও এই ম্যাচে তার ব্যবহার উল্টো বিতর্ক বাড়িয়েছে।

তবে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিলেও বিশ্লেষকদের একাংশ স্বীকার করছেন—লিওনেল মেসির মতো তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও জনপ্রিয়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, আর্জেন্টিনার এই জয় মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি অফ-ফিল্ড বিতর্ককেও সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave Your Comments