দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব ১৬-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২–০ ব্যবধানকে ৩–২ এ পরিণত করে নাটকীয় এক জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির দল।
ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্জেন্টিনার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো।
আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে গিয়ে উল্টো দ্রুত গোল হজম করে বসে তারা। মিশরের সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে বারবার চাপে ফেলে।
প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় মিশর, আর তাতেই কেঁপে ওঠে আর্জেন্টিনার শিবির।
এরপর ম্যাচে ফিরে আসার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি। তার পেনাল্টি মিসে হতাশা আরও বাড়ে, আর প্রথমার্ধ শেষ হয় মিশরের লিড নিয়েই।
দ্বিতীয়ার্ধে আবারও আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা।
কিন্তু উল্টো মিশর আরেকটি গোল করে ব্যবধান ২–০ তে নিয়ে যায়। তখন মনে হচ্ছিল, হয়তো এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ যাত্রা।
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।
৭৯ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে গোল করে ব্যবধান কমান। এই গোলের পরই যেন বদলে যায় ম্যাচের গতি। নতুন উদ্যমে আক্রমণ শুরু করে আর্জেন্টিনা।
মাত্র চার মিনিট পর, ৮৩ মিনিটে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি। দারুণ এক আক্রমণে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। এই গোলের পর পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা।
এরপর ম্যাচ গড়ায় চূড়ান্ত নাটকীয়তার দিকে। যোগ করা সময়ে দ্রুত এক প্রতি আক্রমণে লাওতারো মার্তিনেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বলটি বদলি খেলোয়াড় গনসালো মন্তিয়েলের গায়ে লেগে সামনে চলে আসে মেসির কাছে। মেসির নেওয়া শট গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবাইর ছুঁতে পারলেও পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে তা কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
২–০ থেকে ৩–২—এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন শুধু একটি জয়ই নয়, বরং আর্জেন্টিনার লড়াইয়ের মানসিকতার প্রতীক হয়ে থাকবে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছেড়ে লড়ে যাওয়ার উদাহরণ তৈরি করল তারা।
এবারের বিশ্বকাপ যেন একের পর এক রোমাঞ্চকর নাটকের জন্ম দিচ্ছে, আর আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য ফেরা সেই তালিকায় অন্যতম সেরা হয়ে থাকল।