ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নাটকীয় এক মুহূর্তের জন্ম দিলেন দুই দলের দুই তারকা—কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়াসিন বুনু। নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে, আর দুর্দান্ত এক সেভে মরক্কোকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক বুনু।
ম্যাচের ২৬ মিনিটে আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে চেনা স্টাইলে ড্রিবলিং ও স্টেপওভারের মাধ্যমে ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করেন এমবাপ্পে। এ সময় মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই তাকে ফাউল করলে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট হলেও ভিএআর যাচাইয়ের জন্য কিছুক্ষণ খেলা থেমে থাকে, যা মাঠে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভিএআর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে বলের সামনে দাঁড়ান এমবাপ্পে। পুরো স্টেডিয়াম তখন নিস্তব্ধ—ফরাসি সমর্থকদের প্রত্যাশা একটি নিশ্চিত গোল, আর মরক্কো শিবিরে চাপা উৎকণ্ঠা।
তবে সেই প্রত্যাশা ভেঙে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এমবাপ্পে ধীরগতির ‘স্টাটার’ রান-আপ নিয়ে শট নিলেও তাতে ছিল না পর্যাপ্ত গতি বা শক্তি। বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজেই বল ঠেকিয়ে দেন বুনু। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে মরক্কোর খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।
এই সেভ শুধু একটি গোল বাঁচানোই নয়, বরং ম্যাচের গতিপথেও প্রভাব ফেলে। ফ্রান্সের জন্য এটি ছিল লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ, যা হাতছাড়া হওয়ায় কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। অন্যদিকে, বুনুর এই সেভে নতুন করে আত্মবিশ্বাস পায় মরক্কো।
পেনাল্টি মিসের পরপরই ম্যাচে ঘোষণা করা হয় হাইড্রেশন ব্রেক। ২৮ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় স্কোরলাইন থাকে ০-০ সমতায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। তবে এই পেনাল্টি মুহূর্তই প্রথমার্ধের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে। বিশেষ করে এমবাপ্পের মতো নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের এমন দুর্বল শট ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও বিস্ময়ের জন্ম দেয়।
শেষ পর্যন্ত এই মিস কতটা প্রভাব ফেলবে ম্যাচের ফলাফলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।