মোংলায় কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলায় দস্যু-সহযোগীদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ

Date: 2026-06-12
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাগেরহাটের মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।

শুক্রবার সকালে মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত ১১ জুন হারবারিয়া স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনসংলগ্ন ওই এলাকা বনদস্যুদের রসদ, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপনের ফলে দস্যুদের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।

ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, “কোনো অপপ্রচার, গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা কোস্টগার্ডকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

সভায় জানানো হয়, সুন্দরবনে দস্যুতা দমন ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিচালিত অভিযানে ৩৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, কার্তুজ, ককটেল, ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম।

কোস্টগার্ড জানায়, ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির ফলে বর্তমানে সুন্দরবনের দস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার গত ১৭ মে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

বর্তমানে সুন্দরবনে ছয় থেকে আটটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করছে কোস্টগার্ড। ড্রোন প্রযুক্তিসহ আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্গম এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ সময় মোংলা সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় এলাকা ও দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান জোনাল কমান্ডার।

Leave Your Comments