আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এগার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মানিক চন্দ্র বর্মনের (৪২) বিরুদ্ধে। ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুসছে ভুক্তভোগীর পরিবার সহ এলাকার মানুষ।
ঘটনাটি ঘটেছে বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড হিন্দু প্রধানপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শৈলেন বর্মন (৩৮) প্রতিবেশী মানিক চন্দ্র বর্মনের বিরুদ্ধে তার কন্যাকে নতুন জামা দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে গত সোমবার ৮জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শৈলেন বর্মন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন মজুরের কাজ করতে গেলে প্রতিবেশী মানিক চন্দ্র বর্মন তার মেয়ের জন্য কেনা নতুন জামা দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির ভেতর নিয়ে ঘরের দরজা আটকে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটি চিৎকার চেচামেচি করতে চাইলে কিংবা এই ঘটনা অন্য কারো সামনে প্রকাশ করলে ভুক্তভোগীর বাবা ও ছোট ভাইকে জানে মারিয়া ফেলিবে বলে হুমকি ধামকি দেয়। পরে সন্ধ্যায় শিশুটির মা কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে এলে তাকে কান্না করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন।
অভিযুক্ত একই এলাকার সুশেন চন্দ্র বর্মনের ছেলে মানিক চন্দ্র বর্মন (৪২)।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় নামা প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দা একজন নারীকে বলেন, ধর্ষক মানিক চন্দ্র বর্মনের মেয়ে ও ধর্ষিত শিশুটি একই শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। এর আগেও মেয়ের অন্য সহপাঠী দের সাথে খারাপ আচরণ করার চেষ্টা করেছে। এমন ঘৃণ্য অপরাধের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
ভুক্তভোগীর মা জানান, অনেকদিন ধরেই মানিক চন্দ্র আমার মেয়েকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাবে উত্যক্ত করতো। আমরা গরীব অসহায় বিধায় তার মেয়ের সমবয়সী আমার ছোট্ট কন্যা শিশুকে ধর্ষণ করে হুমকি ধামকি দিয়ে চুপ করিয়ে দিতে চাইলো। কোন মাকে যেন এতো অসহায় হতে না হয়, আমি এর বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর পিতা ও মামলার বাদী শৈলেন জানান, আমরা গরীব মানুষ বিচার কি পাবো। মামলা করা সাতদিনেও আসামি গ্রেফতার হলোনা।
মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা সহকারী পরিদর্শক বাপ্পি হোসেন জানান, ভিকটিমের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। ঘটনার যথার্থতা সনাক্তকরণে মেডিকেল পরীক্ষা নিরীক্ষাও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আসামী পলাতক থাকায় ধরা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: রেজোয়ানুল মন্ডল জানান, আসামীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অতিদ্রুত আসামী কে আইনের আওতায় আনা হবে।