যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষ কি বিশ্বকাপ দেখছেন

Date: 2026-06-19
news-banner

অন্ধকার গাজায় বিশ্বকাপের আলো

মধ্য গাজার নুসেইরাত এলাকার ধ্বংসস্তূপে সোমবার রাতে ভিড় করেছিলেন কয়েক ডজন মানুষ। বিদ্যুৎ নেই, চারদিকে অন্ধকার। তবু একটি উজ্জ্বল পর্দার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা দেখছিলেন বিশ্বকাপের ম্যাচ—বেলজিয়াম বনাম মিসর। প্রিয় তারকা মোহাম্মদ সালাহ মাঠে থাকায় উচ্ছ্বাস ছিল আরও বেশি। ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হলেও সমর্থকদের আনন্দে ভাটা পড়েনি। কেউ বন্ধুর কাঁধে বসে পতাকা উড়িয়েছেন, কেউ আবার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উৎসাহ দিয়েছেন।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা মুস্তাফা সিয়াম বলেন, “গাজার মানুষের কাছে বিশ্বকাপ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। অন্তত কিছু সময়ের জন্য দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকার সুযোগ দেয় ফুটবল।”

গাজার বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ক্যাফে গড়ে উঠেছে। পুরোনো জেনারেটরের শব্দের সঙ্গে খেলা দেখা, প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে বালুর ওপর টেলিভিশন রাখা—সবই যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত জীবনের মাঝেও ফুটবলের আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।

বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে বসে খেলা দেখছিলেন ঈদ আল-আত্তার। তাঁর আক্ষেপ, “কখনো কি স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ হবে? গাজায় সেটা প্রায় অসম্ভব।”

গাজা সিটির যুবক মাজেন আল-ঘুল বলেন, “বিশ্বের মানুষ জীবন উপভোগ করছে। আর আমাদের ঘর নেই, স্কুল নেই, বিদ্যুৎ নেই। তবু আমরা খেলা দেখি।”

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনো তাজা। তখন গাজা সিটির স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় হাজারো মানুষ ম্যাচ দেখতেন। এখন সেই দৃশ্য নেই। যুদ্ধের ক্ষতচিহ্নে ভরা ক্যাফেগুলোতে খেলা দেখার চেষ্টা হয়, কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে দর্শকেরা হতাশ হয়ে অপেক্ষা করেন।

তবু ফুটবল থেমে নেই। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের সৈকতে তরুণেরা খালি পায়ে কিংবা পুরোনো জুতা পরে ফুটবল খেলছেন। স্বেচ্ছাসেবী কোচেরা তাঁদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। কোচ মোহাম্মদ আবু তাহর বলেন, “ফুটবলই জীবনের একমাত্র মুক্তির পথ।”

যুদ্ধ গাজার মানুষের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারেনি। বিশ্বকাপের আলো তাই এখনো পৌঁছে যায় অন্ধকারে ডুবে থাকা গাজার কোনায় কোনায়।

Leave Your Comments