সিএনএন :
সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার পরও নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতার নাজুক অবস্থা আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে, সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষেরই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থ জড়িত রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সংঘাত প্রশমিত করে মঙ্গলবার কাতারে আলোচনায় বসতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। বৈঠকে সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে। তবে আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থানও জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের কৌশলগত টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে কোনো ধরনের একক নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে ইরানও এ জলপথকে নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে কাতারের সম্ভাব্য আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত।