আফগানিস্তানে বারবার বিমান হামলা চালিয়েও কেন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে থামাতে পারছে না পাকিস্তান

Date: 2026-06-30
news-banner

আল–জাজিরা:

আফগানিস্তানের তিনটি প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানায় অভিযান চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, রোববার রাতে আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে পরিচালিত হামলায় ২৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের দাবি, একই রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বাজাউর এলাকায় পৃথক একটি স্থল অভিযানে জামাত-উল-আহরারের (জেইউএ) এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের হামলায় আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহত শিশুদের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, হামলায় ডজনখানেক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে পাকিস্তান ও তালেবান—উভয় পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে হামলার পরদিন সোমবার আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পাকিস্তান সরকার। এর আগে গত সপ্তাহে করাচিতে সিন্ধু রেঞ্জার্সের একটি ঘাঁটিতে হামলায় তিন সদস্য নিহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শাখা জামাত-উল-আহরার।

পাকিস্তানের অভিযোগ, টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে দেশটিতে হামলা চালাচ্ছে। যদিও কাবুল বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করলেও দেশটির অভ্যন্তরে হামলা পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, শুধুমাত্র সামরিক অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া সীমান্ত অঞ্চলের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

Leave Your Comments