‘আংটিটা দেখেই চিনেছি’: অস্থায়ী মর্গে স্বজনের মরদেহ শনাক্ত করছেন ভেনেজুয়েলার বাসিন্দারা

Date: 2026-06-30
news-banner

এএফপি:

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার বন্দরনগরী লা গুয়াইরায় স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে অস্থায়ী মর্গে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। হাসপাতালের মর্গে জায়গা না থাকায় বন্দর এলাকার একটি অংশকে অস্থায়ী মর্গে রূপান্তর করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। রাজধানী কারাকাসের কাছে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু আবাসিক এলাকা, বহুতল ভবন, স্কুল ও শপিং সেন্টার ধসে পড়েছে।

অস্থায়ী মর্গে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহ শনাক্ত ও পরীক্ষা করছেন। মরদেহের চাপ সামাল দিতে সেখানে কফিন, মরদেহের ব্যাগ এবং অস্থি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পাত্র রাখা হয়েছে।

২৫ বছর বয়সী উইলকার মোল্লালা জানান, ভূমিকম্পে তাঁর পরিবারের ১১ সদস্যের মধ্যে শুধু তিনি ও তাঁর এক ভাই বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের মরদেহ শনাক্ত করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

৪১ বছর বয়সী অ্যান্থনি মারকানো জানান, প্রথম দিন মেয়েকে খুঁজে না পেলেও পরদিন একটি আংটির মাধ্যমে তিনি মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তাঁর ভাষায়, “আমি ওকে একটি আংটি উপহার দিয়েছিলাম। সেটি দেখেই চিনতে পেরেছি।”

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সরকার নিখোঁজের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি, জাতিসংঘের ধারণা, প্রায় ৫০ হাজার মানুষের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি ১০ হাজার মরদেহের ব্যাগ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন বেসরকারি শেষকৃত্য প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা বিনা মূল্যে মরদেহ পরিবহন ও দাফন বা দাহের ব্যবস্থা করছে।

নিজের মায়ের মরদেহ নিতে আসা ডারউইন সিলভা বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে গভীর রাতে তাঁর মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শোকাহত পরিবারগুলোর উদ্দেশে অ্যান্থনি মারকানো বলেন, “ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন, যেন অন্তত প্রিয়জনকে মর্যাদার সঙ্গে শেষ বিদায় জানাতে পারেন।”

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তাও ধীরে ধীরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

Leave Your Comments