রয়টার্স:
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন নিরাপত্তা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নতুন অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আঞ্চলিক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
চুক্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে এবং লেবানন সরকারেরও তা বলপ্রয়োগে বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘ সময় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার রাজনৈতিক ভিত্তি পেতে পারে। একই সঙ্গে লেবানন এমন এক অবস্থায় পড়তে পারে, যেখানে চুক্তির শর্ত পূরণ করা সম্ভব হবে না, আবার দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্বও ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।
বৈরুতভিত্তিক বিশ্লেষক মাইকেল ইয়াং বলেন, চুক্তির কাঠামোতে লেবাননের ওপরই অধিকাংশ দায়িত্ব চাপানো হয়েছে, অথচ ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কার্যকর কোনো নিশ্চয়তা রাখা হয়নি।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের গবেষক ফাওয়াজ গের্গেসের মতে, চুক্তিটি এমন একটি শর্তের ওপর নির্ভর করছে, যা বাস্তবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তাঁর ভাষায়, এটি কার্যকর হওয়ার আগেই বড় ধরনের কাঠামোগত সমস্যায় পড়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরলেও হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির নেতা নাঈম কাসেম চুক্তিকে "অকার্যকর" ও "আত্মসমর্পণের দলিল" বলে অভিহিত করেছেন এবং ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি সরে না যাওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চুক্তিকে সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি মনে করেন, এটি একতরফা শর্তে তৈরি একটি সমঝোতা, যা লেবাননের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হিজবুল্লাহকে বলপ্রয়োগে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করা হলে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, বাস্তবে হিজবুল্লাহ অস্ত্র ছাড়বে না এবং ইসরায়েলও সহজে সেনা প্রত্যাহার করবে না। তাঁর মতে, উভয় পক্ষের অবস্থান বিবেচনায় চুক্তির বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সীমান্তে সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি এবং ধাপে ধাপে আস্থা তৈরির উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিলে চুক্তির সফল হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকত। বর্তমান কাঠামোতে বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।