ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরক তৈরির সময় সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনার পর আইএস–মতাদর্শী নিষিদ্ধ সংগঠন নব্য জেএমবির পুনর্গঠনের ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কেরানীগঞ্জের ওই ঘটনার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে রাজধানী ও কুমিল্লায় সংঘটিত আরও কয়েকটি বিস্ফোরণ এবং পুলিশের ওপর হামলার যোগসূত্রও খুঁজে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা নামে ভাড়া নেওয়া একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের পর পুলিশ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, তারা আইএস–ঘনিষ্ঠ নব্য জেএমবির সদস্য এবং বিস্ফোরণের আগের রাতেই সেখানে বোমা তৈরি করা হয়েছিল।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের ঘটনার পর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে পুলিশের ওপর হামলা, সায়েদাবাদে বিস্ফোরণ এবং কুমিল্লার একটি শিবমন্দিরে বিস্ফোরণের সঙ্গে একই নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শেখ আল আমিনের ঘনিষ্ঠ নাজমুল হাসান মামুন ও মোহাম্মদ আরিফকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া বা জামিনে বের হওয়া উগ্রপন্থীদের একটি অংশ আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা শুরু করে। কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনায় সেই তৎপরতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বর্তমানে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর অনলাইন কার্যক্রম, সন্দেহভাজন সদস্যদের চলাচল, কারাগার থেকে মুক্ত ব্যক্তিদের তৎপরতা কিংবা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ পর্যবেক্ষণে আগের মতো নজরদারি নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও উগ্রবাদ মোকাবিলায় স্পষ্ট কৌশল বা অগ্রাধিকার না থাকায় কার্যক্রমে শিথিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বিপুল বিস্ফোরক কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো শাফকাত মুনির বলেন, সহিংস উগ্রবাদ এখনো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা হুমকি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষায়িত সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে উগ্রবাদ দমনের কাঠামো আরও শক্তিশালী করা জরুরি।