ফরিদপুরে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ তরুণের মৃত্যু
Date: 2026-07-01
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লাবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসানদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার কিশোরদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে দুই মহল্লার শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে কুমার নদের দুই পাড়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ, যা রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত চারটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় চোয়ালে গুলিবিদ্ধ হন সুমন শেখ। তাঁর বন্ধু হাবিবুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানজিভ জুবায়ের জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুমনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গুলির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে বুধবার সকালে ছেলের জামাকাপড় বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমনের মা। তিনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।