ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীমউদ্দীন হল মাঠে বড়পর্দায় ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও হল সংসদের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। খেলা প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল, আর হল সংসদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে—এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে মাঠে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছে এবং ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল অভিযোগ করে, যথাযথ প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে খেলা প্রদর্শনের আয়োজন করা হলেও হল সংসদের কিছু নেতা ইভেন্ট সংশ্লিষ্টদের কাছে অর্থ দাবি করেছেন এবং তা না মানলে খেলা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি ইভেন্ট সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মীকে আটক করার অভিযোগও তোলা হয়।
অন্যদিকে, হল সংসদের ভিপি ওসমান গনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একই ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কে চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রমাণ করে বিষয়টি অসত্য। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের সঙ্গে কথা বললে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে এবং তাদের কাছ থেকে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ক্ষমতা তার নেই।
এদিকে, হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এস এম আরিফ মাহমুদ জানান, প্রথমদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বড়পর্দায় খেলা দেখানোর জন্য আবেদন করা হলেও পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয়ভাবে এ উদ্যোগ নেয়। তবে বর্তমানে যারা খেলা প্রদর্শন করছে, তারা হল প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিতভাবে বিশ্বকাপ প্রদর্শনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন পক্ষের উদ্যোগ ও সমন্বয়ের অভাবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি নিয়মতান্ত্রিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।