কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি, লাগেজে আসছে বিদেশি সিগারেটের চালান

Date: 2026-07-04
news-banner


অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্সের কারণে দেশে সিগারেটের দাম বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বিদেশি সিগারেটের চোরাচালান। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা যাত্রীদের লাগেজে লুকিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট আনার ঘটনা নিয়মিতভাবে ধরা পড়ছে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

কাস্টমস ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ছয় মাসে প্রায় ২৪ হাজার ৩৬৪ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মে মাসেই জব্দ হয় ৫ হাজার ৮৪৪ কার্টন। যাত্রীদের অনেকের লাগেজে ১০ থেকে ২০ কার্টন, এমনকি তারও বেশি সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও স্ক্যানিং ব্যবস্থা জোরদারের ফলে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ২০০ শলাকা বা ১০ প্যাকেট সিগারেট আনতে পারেন। এর বেশি পাওয়া গেলে তা জব্দ করা হয়।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ডিউটি-ফ্রি বাজারে সিগারেট তুলনামূলকভাবে অনেক সস্তা। বাংলাদেশে শুল্ক ও করের কারণে একই পণ্য কয়েকগুণ দামে বিক্রি হয়। ফলে কম দামে কিনে দেশে এনে তিন থেকে চার গুণ দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে।

বর্তমানে দেশে নিম্ন স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৬২ টাকা থেকে শুরু হয়ে উচ্চ স্তরের ক্ষেত্রে ২১০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে এসব সিগারেটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা বলে জানা গেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ১০টির মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করে শাহ আমানতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তল্লাশি আরও জোরদার করা গেলে অবৈধ সিগারেট চোরাচালান আরও বেশি পরিমাণে ধরা পড়বে।

Leave Your Comments